প্রতিশোধ ২ | পর্ব ২২ | চূড়ান্ত পরিণতি ও সুখের সমাপ্তি
প্রতিশোধ ২-এর শেষ পর্বে অনন্যার পরাজয়, নেহা ও মুরাদের বিয়ে এবং নিরা-তৃণার মায়ের সাথে আবেগঘন পুনর্মিলনের মাধ্যমে গল্পের এক চমৎকার সুখকর সমাপ্তি ঘটে।
প্রতিশোধ ২-এর শেষ পর্বে অনন্যার পরাজয়, নেহা ও মুরাদের বিয়ে এবং নিরা-তৃণার মায়ের সাথে আবেগঘন পুনর্মিলনের মাধ্যমে গল্পের এক চমৎকার সুখকর সমাপ্তি ঘটে।
নিরুকে জোর করে বিয়ে করে শুভ নিয়ে আসে বাসায়। বাসায় সবাই অবাক, শুভ নিরুকে ভয় দেখিয়ে বিছানা ভাগ করে দেয়। রাতে নিরুর জ্বর আসে, শুভ মায়া দেখিয়ে তাকে বুকে জড়িয়ে ঘুমায়। সকালে ঘুমন্ত নিরুকে দেখে শুভর মন কাঁপে।
নিরু শুভের চুমুয় জেগে উঠে ঝগড়া শুরু করে, শুভ রাগে ওয়াশরুমে চলে যায়। রিমি এসে নিরুকে ভাবী বলে জড়িয়ে ধরে। শুভ নিরুকে রিমির ড্রেস পরতে বাধ্য করে। শ্বশুরবাড়িতে প্রথম দিনে নিরু মাথায় ওড়না দেয়, মাকে মা ডাকতে চায়। শুভের মা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।
নিরু ক্ষুধার্ত হয়ে শুভের আনা ফল খায়, শুভ মনে মনে নরম হয়। সকালের খাওয়ায় শাশুড়ি তাকে সাথে বসতে বলেন। বোন রুবি ঈর্ষায় জ্বলে, মা-কে ফোন করে অভিযোগ। নিরু শাশুড়ির সাথে গল্প করে, রান্নার সুযোগ চায়। শুভ ফিরে তাকে শাড়ি পড়তে শেখায়।
নিরু লাল শাড়ি পরে বের হয়ে আসে, শুভ মুগ্ধ হয়ে তাকে সাজায়, কিন্তু আয়নায় চুমু দিতেই নিরু কাঁদে। শুভ রেগে তাকে তাড়ায়। রান্নার প্রশংসায় রুবি জ্বলে, শুভ খাবার টেবিল ছেড়ে যায়। খালা সন্দেহ ছড়ায়, শুভ নিরুকে জিজ্ঞাসা করে—ছাদে কেন গিয়েছিলে?
নিরু চার ঘন্টা ধরে দাঁড়িয়ে কাঁদছে, শুভ ফিরে এসে তাকে কোলে তুলে বিছানায় শোয়ায়। রিমি নিরুকে সান্ত্বনা দেয়, আর শুভর খালাতো বোন সামিহা তাকে জড়িয়ে ধরে। নিরু ও রিমি সব শুনে, নিরু মন খারাপ করে। শুভ নিরুকে চুমু দেয়, আবেগ উথাল-পাথাল হয়।
নিরু শাড়ি পড়তে গিয়ে লজ্জায় পেট খুলে যায়, শুভ রাগে তাকে শাস্তি দেয়। ফুপি শাশুড়ি তাকে শাড়ি পড়া শেখায়। পার্লারে সাজে নিরু, শুভ মুগ্ধ হয়। ফটোশ্যুটে নিরুর লজ্জা দেখে আনন্দ পায় শুভ। রাতে ঘুমন্ত নিরুকে কোলে তুলে নেয়। পরদিন শুভ তাকে ফুলসজ্যা দেখাতে চায়।
নিরু শুভের কাছে তার অনাথ অতীত ও সৎমায়ের কঠিন ব্যবহারের কথা জানায়, শুভ মুগ্ধ হয়ে তাকে ভালোবাসা স্বীকার করে। রুবি ষড়যন্ত্র করে রিমিকে সিড়ি থেকে ফেলে দেয়, মাথায় গুরুতর আঘাত পায় রিমি। নিরু সন্দেহ করে ডিটারজেন্ট পাতলা করে ছড়ানো হয়েছে।
রুবি নিরুকে দোষারোপ করে, কিন্তু শুভ ফাঁদ পাতে এবং রেকর্ডিংয়ে রুবির স্বীকারোক্তি ধরা পড়ে। রুবি আত্মঘাতের চেষ্টা করে, আর নিরু মানবতার পরিচয় দিয়ে তার জন্য রক্ত দেয়। পরিবারে চাঞ্চল্য ছড়ায়।
নিরু রুবি ও রিমির জন্য ক্ষমা চায়, শুভ নিরুর জন্ম রহস্য উদঘাটনে ম্যানেজারকে জিজ্ঞাসা করে। নিরুর বাবার অফিসে শুভ তাকে চাপ দেয়, নিরুর মা ও আসমত চৌধুরীর মৃত্যুর সত্য খুঁজে পায়। নিরুর প্রকৃত পরিচয় নিয়ে সন্দেহ আরও গাঢ় হয়।
নিরুর জ্বরে অসুস্থ অবস্থায় শুভ তার সেবা করে, কিন্তু ওয়াশরুমে ভিজে থাকা নিরুকে দেখে আবেগে হারিয়ে যায়। শুভের বুকের লোমশ দেহ দেখে নিরু লজ্জায় আর আকর্ষণে মুগ্ধ হয়। উভয়ের মধ্যে চোখাচোখি আর স্পর্শে জমে ওঠে নতুন তীব্র আবেগ।
নিরু প্রথমবার সাহস করে শুভের কাছে আসে, কাজল মুছে তার গলা ছুঁয়ে দেয়। শুভ আবেগে কবিতা শোনায়, কিন্তু ভেজা মেঝেতে পা পিছলে উভয়ে পড়ে যায়। লজ্জায় নিরু পালায়, আর শুভর বাবার মজার কথায় ঘরে আবেগের ঢেউ ওঠে। রুবি রিমিকে ক্ষমা চায়, আর তিন বোন ছাদে হাসি-কান্নায় মিলিত হয়।